বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ পাকিস্তান

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ পাকিস্তান


ads

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যাত্রার রোমাঞ্চ আরও উপভোগ্য হয়ে উঠছে। বিশেষত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ের পর পয়েন্ট টেবিলের ৬ নম্বরে উঠে এসেছে পাকিস্তান। নেট রানরেটে বাংলাদেশের ঠিক পেছনে অবস্থান করছে তারা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতো নিউজিল্যান্ডের। গেল সপ্তাহেও সেমিতে যাওয়া চারটি সম্ভাব্য দলের নাম প্রত্যাশিত ছিল। তবে ইংল্যান্ডের টানা দুই এবং কিউইদের এক হার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।

পাকিস্তান কেন উদ্বেগের কারণ?

বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন পর্বে প্রতিটি দল প্রত্যেকের সঙ্গে একবার করে মোকাবেলা করছে। এ বৈতরণী শেষে সেমির রেসে দুদলের পয়েন্ট সমান হলে উভয়ের মুখোমুখিতে জয় এবং নেট রানরেট দেখা হবে।

শেষ চারের দৌড়ে থাকা একমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষেই ম্যাচ বাকি আছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষেও একটি ম্যাচ আছে টাইগারদের। তবে ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। মাশরাফিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই হয়তো সেকেন্ড ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলবে তারা। ফলে আনকোরা দল নামাতে পারে ভারত। এমনটি হলে জিতে যাবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

পাকিস্তান এ বিশ্বকাপে বেশ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র একটি জয় পেয়েছে। সেই একটি জয়ই পাকিস্তানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হয়ে যায় পাক ব্রিগেড।

পাকিস্তানের বাকি দুটি ম্যাচ। প্রত্যেকটিতে জয় পেলে চতুর্থ স্থানের জন্য শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে তারা। একটি ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে, যারা এখনও কোনো দলকেই হারাতে পারেনি। আফগানদের বিপক্ষে জিততে পারে সরফরাজরা। তাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি হয়ে যেতে পারে একটি ‘ডু অর ডাই’ লড়াই।

পাকিস্তানের যারা ভালো করছে ।বাবর আজমের সেঞ্চুরিতেই নিউজিল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়েছে পাকিস্তান। দলটির বোলিং নিয়ে তেমন উদ্বেগ না থাকলেও ব্যাটিং বরাবরই দুশ্চিন্তার কারণ। বাবর এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ব্যাট করে ৩৩৩ রান তুলেছেন, গড় প্রায় ৬৬। বিশ্বকাপের সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকায় নাম তুলেছেন তিনি।

দুর্দান্ত ফুটওয়ার্ক ও স্পিন খেলার দক্ষতার কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বাবরকে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ভরসা মনে করা হয়। এ বিশ্বকাপে তাদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল দুই সিনিয়র মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের অফফর্ম। মালিককে বেঞ্চে বসিয়ে নামানো হয় হারিস সোহেলকে। আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন তিনি। তিন ম্যাচে তুলেছেন ১৬৫ রান। তবে আনপ্রেডিক্টেবল দলটির চিরাচরিত শক্তির জায়গা পেস বোলিং।

যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বড় মঞ্চের সুপারস্টার মোহাম্মদ আমির। ছয় ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাকে যথাযথ সমর্থন দিচ্ছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। তিন ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন আফ্রিদি। ব্ল্যাক ক্যাপসদের টপঅর্ডারে ধসিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ গেল ৫ বছরে কোনো ওয়ানডে হারেনি।বাংলাদেশ সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে হারে ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে। এর পর দেশের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় অনুনমেয় দলটি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও প্রতি ম্যাচে জয় পান টাইগাররা।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ও ২০১৮ ওয়ানডে সংস্করণের এশিয়া কাপে জয় পায় বাংলাদেশ। অথচ ১৯৯৯-২০১৫ সাল, প্রায় ১৬ বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি বেঙ্গল টাইগাররা।

Please Share This Post in Your Social Media

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 khelajogbd
Design BY NewsTheme